ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দেশের ইলিশ সম্পদ রক্ষা করতে চাইলে অন্তত ৫ অক্টোবরের মধ্যে প্রজনন এলাকার সকল মাছ ধরা জেলেদের নৌকা এবং জাল জমা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আহবান প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর।
তিনি স্বস্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে থাকা মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তরে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত সকল জেলেদের নৌকা এবং জাল জমা নেয়ার ব্যবস্থার আহবান করেন। ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ প্রজনন এলাকার নদীতে কোন ধরনের মাছ ধরার নৌকাজাল চলাচল করতে পারবে না বলে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হলে দেড় দুই হাজার টাকা কেজিতে আর ইলিশ কিনতে হবে না; দেড়শো টাকায় ইলিশ পাবে জনগণ। শনিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর প্রেস ক্লাবের আয়োজনে ইলিশ সম্পদ রক্ষায় করণীয় বিষয়ক আলোচনা ও ইলিশ উৎসবে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও জেলে জনগোষ্ঠীর জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ইলিশ সংরক্ষণকে শুধু ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। এই নিষেধাজ্ঞাটি জারি করা হলে ইলিশ প্রজনন এলাকার মৌসুমে ডিসি, এস পি, ম্যাজিস্ট্রেট এবং সাংবাদিকদের নৌকা বাইচ দেখতে হবে না, কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ব্যয়ও হবেনা। তাদের নিজ নিজ অফিস রেখে জেলেদের ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া, লাঠিপেটা, জেল জরিমানা ও জাল পোড়ানোর দরকার হবে না। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে প্রজনন এলাকার সকল জেলেদের মাছ ধরার নৌকা ও জাল নিষেধাজ্ঞার আগে সরকারি হেফাজতে জমা নেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রকৃত জেলেদের সময়মতো খাদ্য সহায়তা, বিকল্প কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। ইলিশ রক্ষায় শুধু নিষেধাজ্ঞা ও অভিযান নয়, নদী-পরিবেশ সংরক্ষণ, জেলেদের পুনর্বাসন, অবৈধ জাল নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। যে সকল জেলেরা নৌকা এবং জাল জমা দিবেনা তাদের জেলে কার্ড বাতিলেরও প্রস্তাবনা করেন।
এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক তথ্য সচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ। তিনি বলেছেন, ইলিশ সম্পদ রক্ষা করা না হলে আমরা ইলিশ পাবো কোথায়? ইলিশ রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসা উচিত। ইলিশ শুধু প্রশাসনকে নয় সমাজের সকলকে পাহাড়া দিতে হবে।