ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মনিকা পারভীন এর বদলি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনের বদলি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ‘ঘুষ.সাইট’-এ ওঠা অভিযোগের পর তাঁর কার্যালয়ের দুই কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁকে নান্দাইলে বদলি করা হয়েছে।
  • আপলোড তারিখঃ 15-09-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 11825 জন
মনিকা পারভীন এর বদলি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ছবির ক্যাপশন: ‘ঘুষ.সাইট’-এর অভিযোগে দুই কর্মচারী শোকজ; তদন্তের পরপরই শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনের বদলি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ‘ঘুষ.সাইট’-এ ওঠা অভিযোগের পর তাঁর কার্যালয়ের দুই কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁকে নান্দাইলে বদলি করা হয়েছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিস আদেশে মনিকা পারভীনকে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়। একই আদেশে নান্দাইলের উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন্নেছাকে ময়মনসিংহ সদরে পদায়ন করা হয়। আদেশে বদলির কারণ হিসেবে ‘জনস্বার্থ’ উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘ঘুষ.সাইট’-এ ওঠা অভিযোগটি মনিকা পারভীনের বিরুদ্ধে নয়।

অভিযোগের পর তাঁর কার্যালয়ের হিসাব সহকারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান সবুজ এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মুহাম্মদ মজিবুর রহমানকে ৩১ আগস্ট শোকজ করা হয়। তদন্তের জন্য গঠিত কমিটি ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেয়। এর তিন দিন পর মনিকা পারভীনের বদলি আদেশ জারি হয়।

অভিযোগের সূত্রপাত, শাহেদ শরীফ আহমেদ নামের এক তরুণ অভিযোগ করেন, তাঁর প্রয়াত মা আমিনা খাতুনের সরকারি পাওনা ১০ লাখ টাকা পেতে গিয়ে তাঁদের কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল। পরে তিনি ‘ঘুষ.সাইট’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেন।

অভিযোগটি সংবাদমাধ্যমে আসার পর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দুই কর্মচারীকে শোকজ করা হয়।

মনিকা পারভীনের বক্তব্য, বদলি সম্পর্কে মনিকা পারভীন বলেন, তিনি তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করেছেন। বদলি আদেশে ‘জনস্বার্থ’ উল্লেখ করা হলেও এর নির্দিষ্ট কারণ তাঁর জানা নেই।

ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি কর্মকর্তা বদলি আদেশের পর ১০ সেপ্টেম্বর মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে বদলি স্থগিতের আবেদন করেন মনিকা পারভীন।

আবেদনে তিনি বলেন, তাঁর স্বামী ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবে কর্মরত। তাঁদের একমাত্র মেয়ে বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ছে এবং ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

মেয়ের পরীক্ষার সময় কর্মস্থল পরিবর্তন হলে পড়াশোনা ও মানসিক স্থিরতায় সমস্যা হতে পারে উল্লেখ করে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বদলি স্থগিত রাখার অনুরোধ করেন তিনি।

এদিকে, ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে মনিকা পারভীনের বদলি বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছেন।

চিঠিতে তাঁর পারিবারিক পরিস্থিতি ও মেয়ের এসএসসি পরীক্ষার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মনিকা পারভীনকে সৎ, মানবিক ও প্রাথমিক শিক্ষার জন্য নিবেদিত কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

যে প্রশ্নটি এখন গুরুত্বপূর্ণ, মনিকা পারভীনের বদলি প্রশাসনের নিয়মিত সিদ্ধান্ত হতে পারে। আবার শোকজ ও তদন্তের পরপরই বদলি হওয়ায় এর সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো সম্পর্ক ছিল কি না—এ প্রশ্নও উঠতে পারে।

তবে শুধু সময়ের মিল দিয়ে বদলির কারণ নির্ধারণ করা যায় না। এখন প্রয়োজন বদলির সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক কারণ এবং দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে করা তদন্তের ফল পরিষ্কার করা।

একই সঙ্গে ‘ঘুষ.সাইট’-এর অভিযোগের সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ভূমিকা যেন ভুলভাবে একীভূত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অভিযোগের তদন্ত চলুক তার নিজস্ব প্রক্রিয়ায়, আর বদলির সিদ্ধান্ত হোক প্রশাসনিক নথি ও বিধির ভিত্তিতে—এটাই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।



নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ my24news

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

সাংবাদিক এইচ টি তোফাজ্জালের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন