ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
“ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ময়মনসিংহে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বেলুন উড়িয়ে র্যালির উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান। পরে র্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
র্যালি শেষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদারসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
আলোচনা সভায় ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, ময়মনসিংহের পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ব্রহ্মপুত্র নদ। নদীর তীরবর্তী বিদ্যমান স্থাপনাগুলোকে আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। জয়নুল আবেদিন পার্ক, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা ও নদীর তীরবর্তী পার্ককে ঘিরে সমন্বিত পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের অপর পাড়ে বাঁধ ও পার্ক নির্মাণের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলাধুলার মাঠ, স্টেডিয়াম, ইনডোর স্টেডিয়াম এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ময়মনসিংহের পর্যটন সম্ভাবনাকে শুধু নগরকেন্দ্রিক না রেখে জেলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানকে পর্যটন পরিকল্পনার আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। হালুয়াঘাটের গাবরাখালী, মুক্তাগাছার ঐতিহাসিক জমিদারবাড়ি ও গৌরীপুরের জমিদারবাড়িসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ময়মনসিংহের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে স্থানীয় প্রশাসন ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কোনো পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়; স্থানীয় প্রশাসন ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বিত প্রচেষ্টাই পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলার পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। হালুয়াঘাট, নান্দাইল, ধোবাউড়া ও ত্রিশালসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাওয়া তথ্য সমন্বয় করে জেলার পর্যটন সম্ভাবনা এবং তা বাস্তবায়নে করণীয় নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ময়মনসিংহে নদীভিত্তিক পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য এলাকার পর্যটন মডেল সরাসরি ময়মনসিংহে প্রয়োগ না করে স্থানীয় ভৌগোলিক ও পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। ব্রহ্মপুত্র নদের চরগুলোকে কেন্দ্র করে পিকনিক, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
তিনি ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে উঠলে বেসরকারি খাত পর্যটন অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধানের সঞ্চালনায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।