ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ময়মনসিংহ নগরীর মহারাজা রোডে অবস্থিত শ্রীশ্রী কানাই বলাই বিগ্রহ মন্দিরে নারীদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অতিথিরা।
শ্রীশ্রী কানাই বলাই বিগ্রহ মন্দিরের কার্যকরী কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ (১৪৯) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্দিরের কার্যকরী কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী সিতেশ পাল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্দিরের কার্যকরী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক উত্তম ঘোষ, বিএনপি ময়মনসিংহ মহানগর কমিটির সদস্য ও ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক সমিতির মহাসচিব রতন আকন্দ এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ময়মনসিংহের সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ময়মনসিংহ বিভাগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত দাস দুকুল। এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মন্দিরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ভক্ত, সাধারণ মানুষ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব পরিবার, সমাজ ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আনন্দ, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করে। উৎসবের আনন্দ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বস্ত্র বিতরণের মতো মানবিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দেবব্রত দাস দুকুল বলেন, ধর্মীয় উৎসব শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানবিকতা, সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করার প্রত্যয়। এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে নারীদের হাতে শাড়ি তুলে দেওয়া হয়। বস্ত্র উপহার পেয়ে উপস্থিত নারীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আয়োজকেরা জানান, ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করা এবং সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব জোরদার করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন রনি সিংহ, সুমন সাহা, দেবল দাসসহ আরও অনেকে।
আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে এ ধরনের মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে সমাজে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।