ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ত্রিশালে রিজভী কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের নির্মাণসামগ্রী সংরক্ষণস্থলে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক ও লুণ্ঠিত মালামালের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট থেকে ২ অক্টোবর রাত ৩টার মধ্যে ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের মঠবাড়ি বড় পুকুরপাড় এলাকায় ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনসংলগ্ন রিজভী কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দুটি ট্রাকে করে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের মধ্যে রয়েছে ৬০০ পিস এমএস পাইপ, ১৬০ পিস স্টিল শাটার, ১৬০ পিস স্টিল জয়েন্ট, ১০টি জানালার গ্রিল, ৯টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৩৫ হাজার টাকা। এজাহারে লুণ্ঠিত মালামাল ও নগদ অর্থের মোট মূল্য ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (অপারেশন) মো. মোখছেদুর রহমান (৪৭)-এর অভিযোগের ভিত্তিতে ৩ অক্টোবর ত্রিশাল থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় মামলা করা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেফতার আটজন
মামলার তদন্তভার গ্রহণের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ মামলায় ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁরা হলেন জামালপুরের খবিজল (৩৫), ময়মনসিংহের আবু হানিফ (৩৮) ও উজ্জল মিয়া (২৫) এবং ভোলার সোহেল (২৫)। তাঁদের যথাক্রমে ৯, ১৪, ১৪ ও ১৫ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তী অভিযানে আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—জামালপুরের মো. সৈকত ওরফে সাখাওয়াত (২৪), বরিশালের মো. বাদল ওরফে আসলাম (২৮), ময়মনসিংহের মাসুদ মিয়া (৩৫) এবং ঠাকুরগাঁওয়ের মো. ফরিদ হোসেন (৪৫)। তাঁদের বর্তমান ঠিকানা গাজীপুর ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক উদ্ধার
গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানাধীন নাওজোড় এলাকা থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়। ট্রাকটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট-২০-৭২৬০।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত আরআইসিএল লোহার কোম্পানির ভেতরে অভিযান চালানো হয়। সেখানে মামলার বাদী শনাক্ত করার পর সাক্ষীদের উপস্থিতিতে লুণ্ঠিত মালামালের মধ্যে ছয় পিস এমএস পাইপ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত
পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।