ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ছদাহা কে.কে. স্কুলের গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নে আওয়ামী লীগ নেতা ইসহাককে ঘিরে বিতর্ক

গত ১৫ জুন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত একটি আবেদনে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি পদে তিনজনের নাম প্রস্তাব করা হয়। তাঁরা হলেন—মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার, মোহাম্মদ ইসহাক ও মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।
  • আপলোড তারিখঃ 27-09-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 8530 জন
ছদাহা কে.কে. স্কুলের গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নে আওয়ামী লীগ নেতা ইসহাককে ঘিরে বিতর্ক ছবির ক্যাপশন: আওয়ামী লীগ নেতা ইসহাক


চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নে অবস্থিত ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে মোহাম্মদ ইসহাকের নাম প্রস্তাবকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সুশীল সমাজে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, মোহাম্মদ ইসহাক দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন নির্বাচনে দলটির প্রার্থীদের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ঘিরেও তাঁর ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, গত ১৫ জুন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত একটি আবেদনে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি পদে তিনজনের নাম প্রস্তাব করা হয়। তাঁরা হলেন—মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার, মোহাম্মদ ইসহাক ও মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার বিএনপির সমর্থক, মোহাম্মদ ইসহাক আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তবে তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় ও সম্পৃক্ততার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিএনপি ও এনসিপির স্থানীয় দুই নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিনের মাধ্যমে সভাপতি পদে তিনজনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ইসহাক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা কাউকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়ার আগে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন ইসহাকের বিরুদ্ধে সরকারি পাহাড় ও খাসজমি দখল, মাছের প্রকল্প ও ফলের বাগান স্থাপনসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন। তাঁর বিপুল সম্পদ, বাড়ি, গাড়ি এবং বিদেশে সম্পদ থাকার বিষয়েও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এসব অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অতীতে ইসহাক সভাপতি থাকাকালে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির মাঠ ও স্থাপনা ব্যবহার করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিতেও প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসহাককে সভাপতি করার উদ্যোগের প্রতিবাদে গত ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে ৩ হাজার টাকা রেভিনিউ ফি পরিশোধ করে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীরা বিষয়টি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সভাপতি নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
তাঁরা জানান, অভিযোগগুলো তদন্ত না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে প্রয়োজনে মানববন্ধন, অবরোধসহ আইনি ও সাংগঠনিক কর্মসূচি নেওয়া হবে। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ ইসহাকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল-মামুন চৌধুরীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ my24news

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

সাংবাদিক এইচ টি তোফাজ্জালের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন