ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পাবনায় ধর্ষণের ১৫ মিনিটের মধ্যেই হত্যা শিশু কলিকে

পুলিশ জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি নিখোঁজ হয়। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
  • আপলোড তারিখঃ 21-09-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 9872 জন
পাবনায় ধর্ষণের ১৫ মিনিটের মধ্যেই হত্যা শিশু কলিকে ছবির ক্যাপশন: নিখোঁজের সাত দিন পর মিলল শিশু কলির মরদেহ, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিক রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, মাগরিবের নামাজের পর শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় এবং এর প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যেই তাকে হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি নিখোঁজ হয়। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই বেনু রায় পিপিএম জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে দ্রুত সময়ে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পুলিশের দাবি, রিমান্ডে মোস্তফা ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং দুজন মিলে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন। তবে অপর আসামি ইয়াসিন আলী ধর্ষণ ও হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, হত্যার পর মোস্তফা তার কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন এবং তিনি শুধু ওই কাজে সহযোগিতা করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন কলি মোস্তফার মুদি দোকানের সামনে অবস্থান করছিল। মাগরিবের নামাজের পর তাকে দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে ধর্ষণের পর প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে তাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে গোপন করার চেষ্টা করা হয়। পরে মরদেহের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত ও ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মোস্তফার মোবাইল ফোনে বিভিন্ন সময়ে তার দোকানে আসা অল্পবয়সী মেয়েদের আপত্তিকর ভঙ্গিতে তোলা ছবি পাওয়া গেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। বিষয়টি তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। ডিজিটাল ফরেনসিক ও অন্যান্য পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণের ঘটনায় কতজন জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে, কলির ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন ও বিচার দাবিতে নিহতের স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেছেন। সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের দাবিতে পাবনা আদালত ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।



নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ my24news

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

সাংবাদিক এইচ টি তোফাজ্জালের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন