ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
মাদকের ভয়াল থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা এবং মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ময়মনসিংহে মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের দক্ষিণ জেলা ও মহানগর শাখার নেতাকর্মীরা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন (এমপি) ঘোষিত মাদকবিরোধী উদ্যোগের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা এবং মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়— “মাদকের আস্তানা, এই বাংলায় হবে না”, “মাদকের আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও” এবং “ইশরাক ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই”।
মিছিলটি ময়মনসিংহ নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা উৎসুক জনতা করতালির মাধ্যমে মিছিলকারীদের উৎসাহ দেন। মিছিলজুড়ে মাদকবিরোধী নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো।
মিছিল শেষে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের আহ্বায়ক হাসানাত জামান সাগর। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন মহানগর মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সদস্যসচিব সৈয়দ মোহাম্মদ মজনু।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলার সদস্যসচিব মুশফিকুল হক তপু, মহানগর প্রজন্মের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুল্লাহ হাবু ও আসাদুজ্জামান নবীন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক কে এম এ জব্বার, সদস্য মুফাখখারুল ইসলাম রনি, খায়রুল ইসলাম, উত্তম দাস, এ এইচ এম আরমান ও মো. শাজাহান। এ ছাড়া মহানগর মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সদস্য আমজাদ আলী আনন্দ, আসাদুজ্জামান পাইলট, মীর বুলবুল আহমেদ, মো. ইকবাল বাহার, মো. মাসুদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে বিপথগামী করে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও দেশের ভবিষ্যৎকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদকের বিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তরুণদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপরও তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের সাহসী নেতৃত্ব তাঁদের অনুপ্রাণিত করেছে। একই সঙ্গে যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে তাঁর ঘোষিত মাদকবিরোধী উদ্যোগের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তাঁরা।
সমাবেশ থেকে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, মাদকসেবীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে গুরুত্ব দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য সুস্থ, নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে।
মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।