ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গৌরীপুরে সার ডিলার নিয়োগে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক বিবেচনায় ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগও করেছেন এক আবেদনকারী। প্রকাশিত ডিলার তালিকা বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।
  • আপলোড তারিখঃ 12-10-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 3838 জন
গৌরীপুরে সার ডিলার নিয়োগে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন: প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, কৃষিমন্ত্রী বরাবর তালিকা বাতিলের আবেদন

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক বিবেচনায় ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগও করেছেন এক আবেদনকারী। প্রকাশিত ডিলার তালিকা বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে গৌরীপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন পৌর কৃষকদলের সভাপতি মো. গোলাম কাজীয়েল হাজাত শাহী মুন্সী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নে সার ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সার ডিলার নিয়োগের কার্যক্রম অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে। আবেদনকারীদের অবহিত না করে গত ২৪ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লটারি অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, লটারির ভিডিও দেখে জানতে পারেন, ডৌহাখলা ইউনিয়নের জন্য অনুষ্ঠিত লটারিতে তাঁর নাম প্রথমে উঠেছিল। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াতেও তিনি উত্তীর্ণ হয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু রহস্যজনকভাবে চূড়ান্ত প্রকাশিত তালিকায় তাঁর নাম রাখা হয়নি।

শাহী মুন্সীর অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন কিংবা উপজেলা কৃষি বিভাগ চূড়ান্তভাবে যাচাই করা আবেদনকারীদের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। এতে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ডিলারশিপে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা লেনদেনের গুঞ্জন

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিটি ডিলারশিপের বিপরীতে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অলিখিত চুক্তি হয়েছে বলে আবেদনকারীদের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তাঁর দাবি, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের কারণে দীর্ঘদিনের ত্যাগী রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হয়েছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রকাশিত তালিকা বাতিল করে নতুন নীতিমালা অনুসরণ করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ডিলার নিয়োগের দাবি জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ বর্তমান সরকার ও দলীয় নেতৃত্বের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কৃষিমন্ত্রী বরাবর বিএনপি নেতাদের আবেদন

এদিকে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক বিবেচনায় ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তালিকা বাতিলের দাবিতে কৃষিমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির নেতারা।

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব আব্দুর রহমান বাবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলী আকবর আনিছ ও ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব মো. রমজান হোসেন খান জুয়েল যৌথভাবে ওই আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।

এ ছাড়া গৌরীপুর ইউনিয়নে ডিলারশিপের জন্য আবেদনকারী মেসার্স আরিফ এন্টারপ্রাইজ গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতির কাছে আগাম লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। প্রতিষ্ঠানটির আশঙ্কা ছিল, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম হতে পারে।

প্রশাসন ও বিএনপি নেতাদের বক্তব্য

এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, “ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়মের বিষয় আমার জানা নেই। ডিলার তালিকা করেছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।”

গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ বলেন, “সার ডিলার নিয়োগের বিষয়ে দল ও মন্ত্রী মহোদয় কিছুই জানেন না। আমাদের অবহিত করা হয়নি। আমরা দলীয়ভাবে এই তালিকা বাতিলের দাবিতে কৃষিমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছি।”

এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব আব্দুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৪-১৫ জন করে আবেদন করেছেন। বিপরীতে ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন একজন। ফলে অন্য আবেদনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “যাঁদের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নীতিমালা অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে। কেউ অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আসতে হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ my24news

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

সাংবাদিক এইচ টি তোফাজ্জালের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন