ঢাকা | বঙ্গাব্দ

অরুণাচল সীমান্তে চীনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ; দাবি ভিত্তিহীন বলল ভারতীয় সেনা

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) প্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় একটি আদিবাসী সংগঠন। তাদের দাবি, চীনা বাহিনী সেখানে সামরিক ঘাঁটি ও পরিকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি স্থানীয়দের চারণভূমি ও কৃষিজমিসহ বিস্তৃত এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে এই দাবি সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও ভুল’ বলে এক বিবৃতিতে উড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
  • আপলোড তারিখঃ 30-06-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 6962 জন
অরুণাচল সীমান্তে চীনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ; দাবি ভিত্তিহীন বলল ভারতীয় সেনা ছবির ক্যাপশন: ছবি ঃ সংগ্রহীত নেট প্রতীকী

আদিবাসী সংগঠনের বিস্ফোরক অভিযোগ

অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারীনাহআদিবাসীদের সামাজিক সংগঠননাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ (এনডব্লিউএস) সম্প্রতি জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে।

সংগঠনটির সভাপতি কেরু চাদের অভিযোগ করেন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) লাগোয়া আপার সুবানসিরি জেলার অন্তত পাঁচটি এলাকায় (ওয়িং, পানিয়ার, মারপান, পোত্রাং হ্রদ এবং টিনডিংতাং) ভারতীয় ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে স্থায়ী সামরিক ক্যাম্প গড়ে তুলেছে চীনা সেনা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়:

"যেসব জমিতে আমাদের পূর্বপুরুষরা বহু যুগ ধরে অবাধে শিকার করতেন, বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতেন এবং গবাদিপশু চরাতেন, সেগুলো এখন চীনা সামরিক বাহিনীর দখলে। ২০২০ সাল থেকে তারা এই এলাকাগুলো পাকাপাকিভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের সেখানে যেতে বাধা দিচ্ছে।"

স্থানীয়দের দাবি, গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে এই সীমান্ত অঞ্চলে চীনা বাহিনীর তৎপরতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা 'ধীরে ধীরে জমি দখলের' নীতি অবলম্বন করছে। স্থানীয় বিধায়ক নাকাপ নালো এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বিষয়টি যেহেতু জাতীয় নিরাপত্তার সাথে জড়িত, তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর সরকারি সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ভারতীয় সেনাবাহিনীর

গণমাধ্যমে স্থানীয় সংগঠনের এই অভিযোগের খবর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তা জোরালোভাবে খণ্ডন করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

সোমবার (২৯ জুন) সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশে চীনা সামরিক বাহিনীর অনুপ্রবেশ এবং নতুন করে ক্যাম্প বা ঘাঁটি স্থাপনের যেসব খবর প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য।

সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান:

"আমরা সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদন দেখেছি যেখানে পিএলএ- অনুপ্রবেশের দাবি করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনগুলো ভুল এবং এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। সীমান্তে ভারতীয় সেনা পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"

প্রেক্ষাপট চলমান সীমান্ত উত্তেজনা

উদ্বেগজনক এই খবরটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যার কিছুদিন আগেই বেইজিংয়ে ভারত চীনের মধ্যে সীমান্ত বিষয়কওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন’ (ডব্লিউএমসিসি)-এর ৩৫তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকেই ভারত-চীন সীমান্তজুড়ে (এলএসি) চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অরুণাচল প্রদেশকে চীন দীর্ঘ দিন ধরেই 'দক্ষিণ তিব্বত' বলে দাবি করে আসছে, যা ভারত সরকার সবসময়ই দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এর আগেও অরুণাচলের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় চীনের পরিকাঠামো নির্মাণ অনুপ্রবেশের খবর নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তবে প্রতিবারই ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারির কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া টুডে আনন্দবাজার পত্রিকা।



নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ my24news

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত খাগড়াছড়ি: সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, বিদ্যুৎহীন সাজেক ও দীঘিনালা