জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উত্তর বাজারের ধানমহাল এলাকায় এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৪টায় আয়োজিত এ সমাবেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমরান সালেহ প্রিন্সের কড়া সমালোচনা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী।
সমাবেশের শুরুতে এমরান সালেহ প্রিন্সকে ইঙ্গিত করে নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী বলেন,
“আমাদের নোয়াখালীতে খুব দুষ্টুমি করলে বলে ‘নাডা’। আপনাদের দিকে কী বলে? আজকে সে একটা নাডামি করল। আজকে আমাদের এখানে প্রোগ্রাম হচ্ছে, আর সে একই সময়ে এদিকে আরেকটা প্রোগ্রাম দিচ্ছে।”
তিনি আরও তীব্র ভাষায় বলেন, “এমন পচা পচেছে, নষ্ট হয়ে গিয়েছে, শেষ পর্যন্ত ইলেকশনটাও জিততে পারে নাই।”
সীমান্ত দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে এই এনসিপি নেতা বলেন, “সীমান্তে যত আওয়ামী লীগের লোক ভারতে গিয়েছে, তার ৮০ শতাংশ লোকই এই ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে পালিয়েছে। আমাদের এখন খোঁজ করতে হবে, এমরান সালেহ প্রিন্স এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না। এটা নিয়ে তদন্ত করা দরকার।”
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, “আমরা দেখেছি, এই সীমান্ত দিয়েই কিন্তু ওসমান হাদির খুনি পালিয়ে গিয়েছে। যদি এখান দিয়ে সন্ত্রাসী বাংলাদেশে গুলি করে চলে যায় আর ওপাশ থেকে সন্ত্রাসী আসে, তবে ময়মনসিংহ ও হালুয়াঘাটবাসীর নিরাপত্তা কোথায়? আমরা সরকারের কাছে এই প্রশ্ন রাখতে চাই।”
রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণের সমালোচনা করে নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, “মানুষের লজ্জা থাকলে বেহায়ার মতো কথা বলে না। আমরা এখনো আশায় বুক বেঁধে আছি এবং সংসদেও বলেছি যে, আমরা সংস্কারের জন্য কাজ করতে চাই। রাজপথ উত্তাল করবেন না; রাজপথ উত্তাল হলে গদি টিকানোর মতো সক্ষমতা আপনাদের নাই। কোনো জিয়া ফ্যামিলি কিংবা শেখ ফ্যামিলির দিকে তাকানোর সময় আমাদের আর নাই।”
বিরোধী নেতাদের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদেরকে অনেক বোঝায়—কী লাগবে তোমাদের? তোমাদের কাছে তো ভিক্ষার ঝুলি ছাড়া কিছু নেই! ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে লন্ডন, ভারত আর চীনে গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষকে দেওয়ার মতো আপনাদের কিছু নেই।”
এনসিপি ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আখতার হোসেন, সদস্য সচিব, এনসিপি, সারজিস আলম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক, এনসিপি, এনসিপির অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।