ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ইইউ-তে প্রত্যাখ্যাত পাকিস্তানি চাল আমদানির সিদ্ধান্ত: জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক

বাংলাদেশ সরকারি পর্যায়ে (G2G) পাকিস্তান থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং মজুদ বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে এই সমঝোতা স্মারক (MoU) চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
  • আপলোড তারিখঃ 04-07-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 6669 জন
ইইউ-তে প্রত্যাখ্যাত পাকিস্তানি চাল আমদানির সিদ্ধান্ত: জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক ছবির ক্যাপশন: ইইউ-এর ল্যাব টেস্টে পাকিস্তানি বাসমতি ও সাধারণ চালে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কীটনাশক এবং রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পাকিস্তানের চালের বেশ কয়েকটি চালান বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইইউ-এর ল্যাব টেস্টে পাকিস্তানি বাসমতি সাধারণ চালে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কীটনাশক এবং রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

  • অতিরিক্ত কীটনাশক: চালের চালানে ট্রাইসাইক্লাজোল (Tricyclazole), ক্লোথিয়ানিডিন (Clothianidin) এবং নিওনিকোটিনয়েডস (Neonicotinoids)-এর মতো কীটনাশক ইইউ-এর নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার (MRL) চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় পাওয়া গেছে। উন্নত বিশ্বে এই রাসায়নিকগুলোর ব্যবহার অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে নিয়ন্ত্রিত বা নিষিদ্ধ।
  • অ্যাফ্লাটক্সিন দূষণ: ল্যাব পরীক্ষায় চালের চালানে 'অ্যাফ্লাটক্সিন' (Aflatoxin)-এর উপস্থিতিও মিলেছে। এটি এক ধরণের ক্ষতিকর ছত্রাকজনিত উপাদান, যা মূলত অস্বাস্থ্যকর উপায়ে সংরক্ষণ পরিবহনের ফলে তৈরি হয়।

খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত কীটনাশক রাসায়নিকযুক্ত চাল দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। দীর্ঘ সময় ধরে এই চালের ভাত গ্রহণ করলে লিভার কিডনি অকেজো হওয়ার পাশাপাশি ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের মতো উন্নত দেশগুলো যে চাল জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক মনে করে বর্জন করেছে, সেই একই চাল কোনো প্রকার কঠোর ল্যাব পরীক্ষা ছাড়া বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশে সাধারণত চাল আমদানির ক্ষেত্রে আর্দ্রতা, ভাঙা দানা কিংবা পোকা-মাকড়ের উপস্থিতি দেখা হয়; কিন্তু ভারী ধাতু বা ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান নিখুঁতভাবে শনাক্ত করার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এখনো সীমিত।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান থেকে প্রতি টন চাল প্রায় ৩৯৫ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি করা হচ্ছে। যেখানে একই সময়ে ভারত থেকে কিছুটা কম মূল্যে চাল কেনার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে এই আমদানির যৌক্তিকতা তুলে ধরলেও, বিশ্লেষকদের দাবিখাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে মূল্যের চেয়ে মানুষের জীবনের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

তথ্যসূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন





নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ my24news

কমেন্ট বক্স
notebook

সংবাদটা যেনো বস্তুনিষ্ট, সত্য ও নিরপেক্ষ হয়